Life Style

আইফোন কেনার আগে জেনে নিন এর অসুবিধা গুলি

আইফোন নাম শুনেই আমরা এটা উপলব্ধি করি যে এটা অনেক কিছুই এবং সে কারনেই কারো হাতে আইফোন দেখলে আফসুস করি আবার আমরা অনেকে শখের বসে আইফোন কিনতে চাই।

কিন্তু আমরা কি আসলেই ঠিক কিনা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছি??

কারন আইফোন মানেই গর্জিয়াস একটি লুক সাথে আমরা একে একটু অন্য ভাবে দেখি সব সময়,যদিও আগের কয়েক বছর আগের সেই আইফোন গুলির থেকে বর্তমানের আইফোনের মধ্যে অনেক পরিবর্তনও এসেছে। 

কিন্তু আইফোন তবুও তাদের টার্মস এন্ড পলিসি তে এখনো কিছু রুল বেঁধে দিয়েছে এবং সাথে এখনো আছে কিছু সেই পুরানো সমস্যা গুলি। তাই অবশ্যই আপনাকে আইফোন কেনার আগে দেখে নিন এর অসুবিধা গুলি যা আপনি এখান ছাড়া আর অন্য কোথাও থেকে পুরোপুরি জানতে পারবেন না।

আইফোন কেনার আগে দেখে নিন এর অসুবিধা গুলিঃ

আইফোন কেনার আগে জেনে নিন এর অসুবিধা গুলি

আইফোনের ব্যাটারী ব্যাকাপ কেমন হয়ঃ

আইফোনের ব্যাটারী অপটিমাইজেশন এর দিক থেকে আইফোনের ব্যাটারী তুলনামূলক ভাবে অনেক ভালো এবং লং লাইফ। কিন্তু ব্যাটারীর ধারন ক্ষমতা কম হবার কারনে ব্যাটারী চার্জ নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট না থাকবেন না।কারন আইফোনে ব্যাটারী ড্রেইন অনেক বেশি হয়।

আইফোনের অ্যাপসঃ 

যেহেতু আমি এক সময় অ্যান্ড্রোয়েড ব্যবহার করতাম তখন অ্যান্ড্রোয়েড এর প্লে-স্টোর এ চাহিদা মতন সব ধরনের অ্যাপস পাওয়া যেতো,কিন্তু সে সব আইফোনের স্টোরে নেই।আপনি চাইলেও আপনার মত সব অ্যাপস ও পাবেন না, যেমন ঃ বাংলা ডিকশনারী,বাংলা জব রিলেটেড অ্যাপস বা আন্ডাররেটেড বা ক্রাকিং করা অ্যাপস গুলোর সুবিধা আপনি পাবেন না।তএ কিছু ডিকশনারী টাইপ অ্যাপস পাবেন কিন্তু অতটাও ফ্রেন্ডলি বা ব্যবহার যোগ্য না,
আবার আমরা অ্যান্ড্রোয়েড প্রচুর ভিপিএন অ্যাপস চালু রাখি যেগুলো তে কোন পেইড এর দরকার পড়ে না ।কিন্তু আইওএস অ্যাপস স্টোরের ভিপিএন গুলি তে বেশির ভাগই পেইড এর দরকার হয়।
আর ক্রাক করা কোন অ্যাপস তো ডাউনলোডের সুযোগ আপনার জন্য নাই।

আইফোনে কল রেকর্ড সিষ্টেমঃ 

আইফোনে কল রেকর্ডের কোন সুবিধা নেই ,আপনি চাইলেও পারবেন না কল রেকর্ড করতে।আইফোনে স্টোরে কল রেকর্ডের কোন অ্যাপস নেই,বা ফোনের ডিফল্ট সিষ্টেমেও নেই।তবে কল রেকর্ড বর্তমান জামানায় অনেক জনপ্রিয় এবং কার্যকরি একটি গোপন ফিচার। কিন্তু আইওএস এটি স্বীকার করে যে এটি গোপনীয়তা লংঘনের মত একটি বিষয় তাই তারা কল রেকর্ডের বিষয়ে কোন অ্যাপস এলাউ  করে না।

ফ্রি ম্যাসেঞ্জার সুবিধাঃ 

অ্যান্ড্রোয়েড ব্যবহার কারীরা সাধারনত তাদের যেকোন সীম দিয়েই ফেসবুকের ফ্রি ম্যাসেঞ্জার সুবিধাটি উপভোগ করেন কিন্তু আইফোনে ফ্রি ম্যাসেঞ্জারের কোন সুবিধা আপনি পাবেন না,আপ্নি আইওএস এ আসলে সেটি আর পাবেন না,আইফোন এ আপনার ডাটা থাকলেই সব কিছু চলবে না হলে ফ্রি এর কোন সু্যোগ কোন ভাবেই নেই এই ফিচার টি এখনো আইওএস আপডেট করেনি।

আইফোনের ম্যাসেঞ্জার চ্যাটহেডসঃ

অ্যান্ড্রোয়েড এর ম্যাসেঞ্জার দিয়ে চ্যাট করার সময় আপনি গোল একটি মেসেঞ্জার চ্যাটহেডস দেখতে পান।কিন্তু আপনি আইফোনের ম্যাসেঞ্জারে এই সুবিধা পাবেন না,কারন আইফোন এই অপশনটি সাপোর্ট করে না।তাই আপনয়াকে ম্যাসেজ দেখতে হলে বা চ্যাট করতে হলে আপনাকে সরাসরি ডাউনলোড করা ম্যাসেঞ্জারে নিয়ে যাবে।

আইফোনের অ্যাপস লকারঃ

আইফোনে নির্দিষ্ট ভাবে কোন অ্যাপস বা সব অ্যাপস লক করতে কোন অ্যাপস লকার(Apps Locker) নেই,যার কারনে আপনি কোন কিছুই লক করতে পারবেন না, প্রাইভেট ভাবে কোন ফাইল ম্যানেজার ও নেই যাতে আপনি ফাইল রেখে লক করবেন, এমন কি গ্যালারী লক করারও কোন সুবিধা নেই ,তাই কিছুই লুকিয়ে রাখতেও পারবেন না।গ্যালারী তে গেলেই সব ওপেনই থাকবে তাই গ্যালারী তে গেলেই সব দেখতে পারবেন।

আইফোনে শেয়ার কিভাবে করবেনঃ

আপনি চাইলেই আইফোনে সরাসরি অ্যান্ড্রোয়েড এর মত কিছুই আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপে নিতে পারবেন না এর জন্য আপনাকে আইওএস আইটিউনস সফটওয়্যার এর সাহায্য নিতে হবে। আর একটি বিষয় একটা সময় আইফোনে কিছুই শেয়ার হতো না তবে সেটি শেয়ার-ইট অনেক টাই আপডেট করেছে তাই বর্তমানে এই সুবিধা টা পাওয়া যাচ্ছে।

আরো কিছু অসুবিধা আইফোনে পাবেনঃ

  • অফলাইনে রেডিও শুনতে পারবেন না।
  • গান বা ভিডিও গান সরাসরি ডাউনলোড করতে পারবেন না।
  • থার্ডপার্টি অ্যাপস থেকে কোন অডিও গান ডাউনলোড করলেও আপনি আইওএস এর আই-প্লেয়ার থেকে শুনতে পারবেন না।
  • বাংলাদেশি ডেভেলোপার এর অনেক অ্যাপস আছে বাংলাদেশ রিজিওন থেকে আই স্টোরে পাওয়া যায় না।
  • বাংলাদেশি অ্যাপস থাকলেও আপডেট পাওয়া যায় না কারন অ্যাপস গুলোর মধ্যে প্রচুর বাগ থাকে,যার জন্য অনেক সময় অ্যাপেল কোম্পানী সেটা রিমুভ করে দেয়।
  • আইফোনের অ্যাপস গুলি অন্য আইফোনে শেয়ার করা যায় না।
  • আইফোনে ভিডিও এডিটং এর মত তেমন অ্যাপস নেই যা আইফোনের স্টোরে পাওয়া যায় সেগুলো অনেক টাকা দিয়ে পেইড করতে হয়।

এগুলোই মূলত আইফোনের সাধারন সমস্যা ,তবে এ নিয়ে আফসোস নেই।ব্যবহারের উপরেই আপনার মধ্যে একটা ফিল আসবে স্বাভাবিক ভাবেই।প্রথম দিকে আইফোন একটু অসয্য লাগতে পারবে তবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ছাড়তে চাইবেন না।

কারন আইফোনে আপনি পাবেনঃ

  • প্রিমিয়াম লুক।
  • হাতে নিলে প্রিমিয়াম ফিল।
  • ভালো এক্সপ্রিয়েন্স এর ক্যামেরা,যা অ্যান্ড্রোয়েড এর মত কয়েক বছর ব্যবহার করলেও নষ্ট হবে না।
  • হেভি পারফর্মেন্স,যা অনেক সময় ধরে আপনি ব্যবহার করলেও আপনার সমস্যা হবে না।
  • স্মথ টাচ ডিস্প্লে সুবিধা,
  • সাউন্ড এবং বিল্ড কল কোয়ালিটি
এগুলিও ছাড়াও আরো ঝামেলায় আপনাকে পড়তেই হবে যদি আপনি প্রথম আইফোন ব্যবহার করে থাকেন। তাই এ বিষইয় গুলি কনফ্রাম হলেই আইফোন কিনতে পারেন।
কারন অভ্যস্ত হলে আপনি আন্ড্রোয়েড এর থেকে আইফোনেই বেশি ফিল পাবেন এটুকু শিউর।

পোষ্ট এর বিষয়ে আপনার যেকোন মন্তব্য আপনি শেয়ার করতে পারেন সেই সাথে আপনি আইওএস ব্যবহারকারী হয়ে থাকলে এখানে জানাতে পারেন প্রথম অভিজ্ঞতা।

Also Read: Youtube Channel Grow করুন কয়েকটি ধাপে

Sabyasachi Dewery

Author | Blogger | Digital Marketing Influencer | Tech Researcher At www.sdewery.me

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button