Facebook Solution

কিভাবে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা হচ্ছে জেনে নিন

বর্তমান সময়ে ফেসবুক চালাই না এমন মানুষ খুব কম দেখতে পাই। বিশেষ করে আমাদের যাদের হাতেই স্মার্টফোন আছে তারাই এ বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল মাধ্যমে কানেক্টেড রয়েছি।

এবং ফেসবুক আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী বলা যায়, কারন এর মধ্যেই সব থেকে বেশি ব্যবহার কারী রয়েছে এবং ব্যবহারও সহজলভ্য।
কিন্তু আমরা এই সোশ্যাল মাধ্যমে কতটুকু নিরাপদ? সে বিষয়ে কেউ খেয়াল করেছেন কিংবা জানতে চেয়েছেন??

তাহলে আসুন জেনে নেই হ্যাক হবার কারন গুলো এবং কিভাবে হ্যাক করে নিচ্ছে হ্যাকার রা আমাদের স্বাদের একাউন্ট টিকে।

আবারো স্বাগতম বন্ধুরা আমার ,আপনার ব্লগে,আজকের আমরা জানবো কিভাবে হ্যাক করা যায় একাউন্ট গুলো। তাই আপনাকে অবশ্যই পুরো ব্লগটিকে পড়তে হবে ভালো ভাবে না এবং আশা করি ব্লগ টি আপনাকে সাহায্য করবে।

আর কোথাও কোন সমস্যা হলে কম্মেন্ট বক্সে জানাবেন আপনার মতামত আমি আপনাকে সাহায্য করবো।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক কিভাবে হচ্ছেঃ

প্রায় ১৫ টি পদ্ধতি অবলম্বন করে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা যায় তবে এর মধ্যে ৬ টি বিষয় উল্লেখ্য করবো এবং এর মধ্যে বর্তমানের জনপ্রিয় প্রসেস গুলি আলোচনা করাই আমার মূল লক্ষ্য।
তো আসুন কি কি পদ্ধতি রয়েছে একাউন্ট হ্যাক করার জন্য।
  • Termux।
  • অনুধাবন পদ্ধতি।
  • ফিশিং পদ্ধতি।
  • ফেসবুক একাউন্ট এক্সেস পদ্ধতি।
  • কি-লগিং পদ্ধতি।
  • সেশন-হ্যাইজাকিং।
Facebook account কেন হ্যাকড করা হয়?? সে বিষয়ে বলতে গেলে কয়েকটি কারনেই করা হয় এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে শত্রুতারবসত কিংবা ইচ্ছাকৃত আবার অনেকে হ্যাক করে স্প্যামিং করতে। আজকাল পুরানো একাউন্ট এর কদর খুব বেশি এর কারন এগুলি তে সমস্যা কম হয় বর্তমানে খোলা একাউন্ট গুলির থেকে।

তাই মূলত অনেকে এধরনের আইডি খুঁজে বের করতে বিভিন্ন পন্থায় আইডী গুলো হ্যাক করা হচ্ছে।
আসুন এবার জানা যাক টারমেক্স টুল থেকে কিভাবে এসব একাউন্ট হ্যাকড হচ্ছে।

Termux tool(টারমেক্স টুল):


Termux Tool বর্তমান সময়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর কারন হিসাবে বলা যায় এর সহজলভ্যতা এবং এর কমান্ডের ব্যবহার।
টারমেক্স মূলত কম্পিউটারের লিনাক্স সেটাপের লাইট ভার্ষন যা বর্তমানে আপডেট করে অনেক সহজ করে দিয়েছে বিভিন্ন হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে।

আর এইটি সব থেকে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এন্ড্রোয়েডে এবং স্প্যামিং এর ক্ষেত্রে।বেশির ভাগ স্প্যামার রা পুরানো আইডী এখান থেকে পাসওয়ার্ড বের করে নিয়ে একাউন্ট গুলি ইনফো চেঞ্জ করে হ্যাকড করে নিচ্ছে।

টারমেক্স এর এই সিষ্টেম কে বলা হয় ব্রুটফোর্স এটার্ক, এটি এডমিন প্যানেল এ কিছু কমান্ড ব্যবহার করতে বলে এবং সেখানে কিছু র‍্যান্ডম পাসওয়ার্ড দেয়া হয় ঠিক ১ থেকে ০ পর্যন্ত এবং এ পাসওয়ার্ড গুলি কাজ করে যখন কোন একাউন্ট টার্গেট করে এন্টার করা হয়,
তখন টারমেক্স প্রতি মুহুর্তে ১ থেকে ০ এর মধ্যের সংখ্যা কে বিভিন্ন ভাবে এলোমেলো করে এক্সেস নেয়ার চেষ্টা করে।

যেমন কোন ব্যক্তি যদি খুব সহজ পাসওয়ার্ড দেয় ধরুন 786 তখন টারমেক্স বার বার ১ এর সাথে বিভিন্ন সংখ্যা যোগ করে আঘাত করে টার্গেট আইডিতে থাকা সকল একাউন্টের উপর এবং যারা খুব সহজ পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকে যেমন Mofiz123,786786,Bangladesh এই ধরনের তখন অই কমান্ড গুলো খুব সহজেই আইডি গুলিতে এক্সেস পেয়ে যায়।

এভাবে টারমেক্স থেকে ফেসবুকের একাউন্ট খুব সহজেই হ্যাক করা যায়।

তাই সব সময় চেষ্টা করবেন বড় ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার জন্য কারন টারমেক্স টুল থেকে যখন কমান্ড করে ব্যবহার করা হয় ঠিক তখনই ছোট ধরনের পাসওয়ার্ড গুলি একাউন্টের ডিটেইলস খুব তারাতারি দিয়ে দেয়।

তাই চেষ্টা করবেন মিনিমান ১৫ সংখ্যার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে এবং পাসওয়ার্ড গুলিতে ইংলিশ ওয়ার্ড এবং সংখ্যা এবং বিভিন্ন মার্ক ব্যবহার করুন।


অনুধাবন পদ্ধতিঃ

টারমেক্স হ্যাকিং এর পরেই রয়েছে অনুধাবন পদ্ধতি।মূলত এটি তেমন পপুলার নয় তবে এটি স্প্যামারদের কাছে খুব জনপ্রিয়। কারন এ পদ্ধতিতে তারা খুব সহজেই পুরানো ফেসবুক একাউন্ট হাতিয়ে নেয় এবং সে গুলো ক্লোনিং কিংবা অন্য যেকোন কাজে ব্যবহার করে।

কি এই অনুধাবন পদ্ধতি??

স্প্যামার বা হ্যাকার রা র‍্যান্ডমলি দেশ ভিত্তিত মোবাইল নং আন্দাজে টাইপ করে এবং অই নম্বরের উপর পাসওয়ার্ড দিতে থাকে র‍্যান্ডমলি,কারন আমরা অনেকেই আছি যারা একাউন্ট খুলি মোবাইল নং দিয়ে এবং পাসওয়ার্ড দেই অই নং কিংবা অই নং এর শেষের ৬ সংখ্যা বা পুরো নং টাই।

এখানে ছোট একটি ট্রিক বলে দিচ্ছি কেউ দয়া করে খারাপ কাজে ব্যবহার করবেন না ,কারন বর্তমানে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকড সাইবার ক্রাউম বলে গন্য করা হয়েছে,যদিও বা করেন নিজ দ্বায়িত্তে এতে আমি কোন ভাবেই দায়ি থাকবো না।

কিভাবে করবেন এই হ্যাকিং??

প্রথমে ফেসবুক ব্রাউজার বা ফেসবুক অ্যাপ এ যাবেন এবং লগিন পেইজে মেইল বা ফোন নং এর জায়গাতে টাইপ করবেন 01712345678 এবার এই নং টির পাসওয়ার্ড আমরা জানি না কিন্তু আমরা এই নং টিকে কপি করে হুবহু পাসওয়ার্ডে দিয়ে দিবো এবং লগিন দিবো।যদি লগিন না হয় তাহলে শেষের ৬ বা ৮ সংখ্যা টাইপ করবো পাসওয়ার্ডে ঠিক এমন (345678 or 2345678 0r 017123) ঠিক এভাবে মোবাইল নং গুলি উঠিয়ে ট্রাই করতে থাকবো এতে করে বার বার ট্রাই করলেই কিছু একাউন্ট খুব সহজে পেয়ে যাবো।

তো বন্ধুরা এই বিষয়টিও ফেসবুক চালানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল করবেন এবং এ ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন আর তা না হলে খুব সহজেই আপনার একাউন্ট হ্যাকড হয়ে যেতে পারে।

ফেসবুক একাউন্ট এক্সেস পদ্ধতিঃ

ফেসবুক একাউন্ট এক্সেস এটিও মোটামোটি জনপ্রিয় হ্যাকার এবং স্প্যামারদের কাছে।
এই সিষ্টেম এর কারনেই মাঝে মাঝে বিভিন্ন সেলিব্রেটি দের একাউন্ট হ্যাকড হয়েছে।

এ ধরনের হ্যাকিং করার ক্ষেত্রে ভালো মানের ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা ফেক পাসপোর্ট বানানো শিখতে হয় এবং যারা খুব ভালো কার্ড বানাতে পারেন তারা খুব সহজেই আইডি হ্যাক করার ক্ষেত্রে সফলতা পেয়ে যান।

যদিও এক্সেস সিষ্টেম সব সময় থাকে না আবার থাকলেও দেখা যায় আমাদের নাই অথচ পার্শবর্তী দেশ ভারতে এটি চালু রয়েছে।

এ সিষ্টেম টি দিয়েছিলো নিজের একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে ফেসবুক একাউন্ট রিকভার করার জন্য কিন্তু এটিকে স্প্যামার এবং হ্যাকার রা অপব্যবহার করে।

তাই এ ধরনের হ্যাকিং থেকে একাউন্টের এক্সেস সিষ্টেম বন্ধ করা জরুরি। এবং একাউন্ট অবশ্যই ৩ জন ট্রাষ্টেড কন্টাক এড রাখবেন। এতে করে হ্যাকার রা একাউন্ট এক্সেস নিতে পারে না।

কি-লগিংঃ

কি-লগিং হচ্ছে ফেসবুকে একাউন্ট হ্যাক করার জন্য সব থেকে সহজ উপায় এবং এই কি-লগিং হ্যাকিং সিষ্টেম এতো টাই ভয়ানক যে কোন হ্যাকার এই প্রোগ্রাম কে ধরতে পারে না।

কি-লগিং হচ্ছে একটি ছোট ধরনের প্রোগ্রাম যা পিসি তে খুব সহজেই ইনষ্টল করে যে কারো পিসির চলন্ত অবস্থায় অই পিসিতে যাই টাইপ করা হোক না কেন সেটি আলাদা ফাইল হয়ে টেক্সট আকারে সংরক্ষিত থাকবে।

পরবর্তিতে এই টেক্সট ফাইল টি FTP SERVER বা মেইলের মাধ্যমে হ্যাকারের কাছে খুব সহজেই চলে যেতে পারবে।
যদিও এতে শুধু মাত্র ফেসবুক নয় আপনি যাই করুন না কেন যেমন মেইলে লগিন হোক আর এমনি কোন ওয়েবসাইটে সবই চলে যাবে হ্যাকারের কাছে।

তবে একটি বিষয় এটি এক সময়ের অনেক জনপ্রিয় ছিলো বিশেষ করে কয়েক দশক আগে যখন সাইবার ক্যাফে ছিলো অনেক জনপ্রিয় তখন কার সময়ে তবে এখনো এটি বেশ জনপ্রিয় এর গোপনীয়তার ক্ষেত্রে। তাই একাধিক মানুষের ব্যবহৃত কম্পিউটার ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

সেশন-হাইজ্যাকিংঃ

শেসন হাইজ্যাকিং এ হ্যাকার টার্গেট ভিক্টিমের কুকি(COOKIE) চুরি করে নেয় , এখানে কুকি বলে বিস্কিট কে বুঝানো হয় নি কিন্তু।

HTTPS CONNECTION এ ফেসবুক একাউন্ট এক্সেস করতে গেলে এ ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। আপনার লগিন করা ইনফো গুলো কে হ্যাকার ব্রাউজার প্রথমে কুকিজে নিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে সাইট থেকে অথেন্টিক করে নেয়।আর এই কুকিজ হ্যাকার নিয়ে পরে টার্গেট ভিক্টিমের একাউন্ট এক্সেস নিয়ে নেয়।

তবে এ ধরনের হ্যাকিং সব থেকে বেশি হয় লা Lan and Wifi Connection গুলিতে।
তাই ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
আশা করি আজকের নিবন্ধিত ব্লগটি আপনাকে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে ,যে কিভাবে কিভাবে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা হচ্ছে, কারন অনলাইন মানেই ভালো খারাপ মিলিয়ে একটি দুনিয়া,যে দুনিয়া আপনাকে সব সময় ভালো মন্দ দুই দিক কেই দেখাবে।

তাই সব সময় সচেতন থাকা সব থেকে বেশি জরুরী কারন একমাত্র সচেতন এবং বুঝে শুনে নিজেদের বিস্তার কে তুলে ধরতে পারলেই খারাপের দিক থেকে বাঁচা যাবে।

তো বন্ধুরা কেমন লেগেছে আজকের ব্লগ টি তা অবশ্যই কম্মেন্ট করে জানাবেন। এবং শেয়ার করে দিবেন এতে আপনি সহ আপনার বন্ধুরাও কিছু জানতে পারবে।

আর ফেসবুক সম্পর্কিত যেকোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই কম্মেন্ট এবং আমার ব্যক্তিগত পেজে মেসেজ দিতে পারেন। আমি আপনাকে সাহায্য করবো।

Sabyasachi Dewery

Author | Blogger | Digital Marketing Influencer | Tech Researcher At www.sdewery.me

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button