Random

রাগ বেশি হলে যেভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন

রাগ বেশি হলে যেভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন

প্রিয় ভিজিটর ধন্যবাদ পোষ্টে ক্লিক করার জন্য ,আপনি আপনার রাগ নিয়োন্ত্রন করার জন্যই এই পোস্টটির টাইটেল দেখে এখানে ছুটে আসেন,এতেই বোঝা যাচ্ছে আপনি নিজেকে নিয়ে ওনেক সচেতন, বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। আপনার এধরনের পদক্ষেপইই আপনাকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
রাগ আমাদের আবেগের অনুভূতির একটি বিশেষ স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এটি যখন নির্দিষ্ট সীমানা যখন অতিক্রম করে তখন তা আর কোন ভাবেই স্বাভাবিক বিষয় থাকে না। সে সময় প্রয়োজন পরে একে কঠোর নিয়ন্ত্রন। নয়তো এটি আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ক্যারিয়ার ও সামাজিক জীবনকেও করতে পারে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্থ।

রাগ নিয়ন্ত্রণে করতে যেসব বিষয় অনুসরন করতে পারেন তার বেশ কিছু সহজ উপায়-
১) উলটো সংখ্যা গুনুনঃ সাধারনত আমরা বাচ্চাদের ঘুম পড়ানোর সমইয়ে এই উপায়টা অবলম্বন করতে বলে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যখন আপনি খুব বেশি রেগে আছেন তখন ১০০ থেকে ১পর্যন্ত উলটো করে গুণলে আপনার রাগ কমে যাবে অনেকটাই! বিশ্বাস না হলে একবার চেষ্টা করেই দেখুন না! যেমন ঃ ১০০,৯৯,৯৮,৯৭,৯৬, এভাবে ১ পর্যন্ত।

২) নিজের রাগ  ঝেড়ে ফেলুনঃ অনেক সময়ই আমরা আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই তবে তা কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু সেটা ভেতরে ওনেক টা চাপা থেকেই যায়। এবং এই অবদমিত রাগ দেহ ও মনের উপর প্রভাব ফেলে থাকে বিশেষ করে আমাদের ইন্দ্রিয় সমূহতে। তাই আপনি যখন উত্তেজিত অবস্থা পেরিয়ে কিছুটা শান্ত বোধ করছেন, তখন রাগটা আস্তে করে ঝেড়ে ফেলুন শান্তভাবে। যার উপর, যে বিষয় নিয়ে রাগ করেছেন তাকে বুঝিয়ে বলুন আপনি কোন বিষয়ে রাগ করেছেন। তবে খেয়াল রাখবেন সেই ব্যক্তির উপর নিয়ন্ত্রন আরোপ বা তাকে কোনভাবে মানসিক আঘাত করে নয়।

৩) ব্যায়াম করুনঃ যখন কোন কারণে খুব রাগ লাগছে তখন সেই স্থান ত্যাগ করুন বা চেষ্টা করুন একটু হেঁটে আসা, দৌড়ে বা প্রিয় কোন দৈহিক ব্যায়াম ৫-১০ মিনিটের জন্য করার।কারন এতে আপনার মস্তিষ্কে প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে যার কারনে সচলতা বাড়াবে এবং আপনাকে রিলাক্স করতে সাহায্য করবে।

৪) কিছু বলার আগে কয়েকবার ভাবুনঃ সাধারনত রাগের মাথায় আমরা য়ামাদের সামনের মানুষটিকে এমন অনেক কিছু বলে ফেলি যার জন্য পরে আমাদের আফসোস করতে হয়। অথবা অযথাই সামনের মানুষটিকে আমরা এমন কিছু বলে আঘাত করি যা আসলে সত্য নয় বলে আমরাও জানি কিংবা জানিনা। তাই রাগের মাথায় কিছু বলার আগে একবার হলেও ভাবুন বা ভাবার চেষ্টা করে বলুন। কারন বলে ফেলা কথাটি আপনি আর চাইলেও ফিরিয়ে নিতে পারবেন না। কিছু বলার আগে ৫ মিনিট সময় নিন। নিজের চিন্তা ভাবনা গুলোকে জড়ো করুন এবং কি বলবেন শেষবারের জন্য নিজেকে প্রশ্ন করুন আসলেই আপনি কথাটা বলবেন কিনা!

৫) সম্ভাব্য সমাধানগুলো ভাবুনঃ রাগ আসলে আমাদের ভয়াবহ একটা পরিস্থিতি ছাড়া আর কোন কিছুরই মুখোমুখি করে না। রাগের মাথায় নেয়া সিদ্ধান্ত গুলোও অনেক সময় পরে আমাদের ভোগায় বা বিভিন্ন রকমের চিন্তায় ফেলে দেয়। তাই ভাবুন চিৎকার চেঁচামেচির বদলে সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে। যেমন, আপনার স্বামী প্রায়ই রাতে খাবার সময় ফেরেন না। এর কারন হতে পারে তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং চাইলেও পারছেন না। এক্ষেত্রে আপনার রাগ করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তার সাথে চিৎকার করে কি কোন ভাবেই এর সমাধান সম্ভব? বরং সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে সপ্তাহের কয়েকটা দিন আপনি একা খাবার অভ্যাস করুন, আর বাকি কয়েক দিন তার সাথে এবং সপ্তাহে একদিন বিশেষভাবে বাইরে কোথাও দুজন একান্তে ডিনার করতে পারেন। এভাবে সমাধান চিন্তা করুন। কাজে দেবে।

৬) কথাগুলো বলুন, একটু অন্যভাবেঃ রাগ প্রকাশ করুন, চেপে রাখবেন না এতে আপনার মধ্যে এক ধরনের হিংস্রতা জন্ম নিবে। কিন্তু একটু অন্যভাবে। যেমন আপনার সঙ্গী যদি ভীষণ অগোছালো হয়ে থাকেন এবং ঘরের কোন কাজে আপনাকে সহযোগিতা না করে থাকে। তাহলে আপনি রাগ করে দুটো কথা তো তাকে শোনাতেই পারেন। “ঘরের সব কাজ তো আমিই করি, তুমি তো কিছু করো না” এভাবে বললে আপনার সঙ্গী কষ্ট পেতে পারেন। তাই বরং এভাবে বলতে পারেন, “আমার খুবই মন খারাপ হয় যখন তুমি আমাকে সহযোগিতা করো না এবং আমাকে একা একাই কষ্ট করে ঘর গোছাতে হয় ” এভাবে বললে তিনি তার ভুল বুঝতে পারবেন ও আপনার কষ্ট তার মনেও সহমর্মিতা জাগাবে। যার ফল স্বরূপ সে নিজেকে বদলাতে চেষ্টা করবে এবং যতটা পারে সাহায্য করতে মননিবেশ করবে।

৭) ক্ষমা করে দিনঃ
যদিও এই বিষয়টা তত সহজ নয় , তবু একবার ভাবুন তো, আশপাশের সবাই ঠিক আপনার মনের মত হবে না। আপনি কারো ক্ষতি করেননি বলেই যে কেউ আপনার ক্ষতি করবে না তা ভাবাটা বোকামী। কারো অপরাধের শাস্তি নিজে না দিয়ে প্রকৃতির হাতেই ছেড়ে দিন। ক্ষমা করে দিন কিংবা সময় নিয়ে আস্তে আস্তে এসব ছেড়ে ফেলে দিন । একদিন রাগ করে চেঁচিয়ে দেখুন আর আরেকদিন ক্ষমা করে দিয়ে দেখুন, কোনটায় বেশী তৃপ্তি পাচ্ছেন আপনি? জানবেন আমাদের।

৮) নিজেকে পরামর্শ দিনঃ যখন খুব রেগে আছেন নিজেকে কয়েকবার নিজেই বলুন, ‘শান্ত হও’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’, ‘এগুলো তোমার জীবনের অংশ’… নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করুন। এই অটোসাজেশন আপনার রাগ নিয়ন্ত্রনে আনতে সাহায্য করবে অনেকটাই। প্রয়োজনে রাগের সময়ে একাকীত্ত্বে থাকুন কিংবা খোলা নদী বা মাঠের পাশে চলে গিয়ে নিজেকে ভাবুন

৯) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিনঃ যদি উপরে দেয়া কোন উপায় গুলোই আপনার কোন কাজে না লাগে তবে পরামর্শ নিন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের। এবং তার পরামর্শই আপনাকে সহযোগিতা করবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের।
রাগ করুন, কিন্তু তা যেন চলে না যায় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।আবেগের সুস্থ প্রকাশ ঘটান, সুস্থ থাকুন।রাগের মতন কোন কারন কে সাহসীর মত করে নিয়ন্ত্রন করতে শিখুন।

আশা করি পোস্টটি করে আপনার একটু হলেও উপকার করতে পেরেছি।
আর কোন প্রশ্ন থাকলে, অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন,
রয়েছে পাশে সবসময়, সব্যসাচী

Sabyasachi Dewery

Author | Blogger | Digital Marketing Influencer | Tech Researcher At www.sdewery.me

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button