SEO Tips

হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক বানাবেন কিভাবে জেনে নিন।

আমরা যারা ব্লগ সাইট এসইওর উপরে কাজ করি তারা কম বেশি সবাই ব্যাকলিঙ্ক শব্দটির সাথে পরিচিত। আপনি যদি ব্যাকলিঙ্ক এর সাথে পরিচিত থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্কের সাথেও পরিচিত হবেন,কারন হাই কোয়ালিটির সস্পন্ন ব্যাকলিঙ্ক এর উপরই নির্ভর করে একটি ব্লগ বা সাইটের এসইও থেকে কতটা লাভ হবেন।

একমাত্র হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করতে পারলে আপনি আপনার সাইটের টার্গেটেড কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করে আপনার লক্ষ্যে পোছাতে পারবেন খুব সহজেই এবং সার্চ ইঞ্জিন থেকে নিতে পারবেন আপনার কাংখিত ভিজিটর।

আমরা অনেকেই যারা ব্লগ বা এসইও করে থাকি তারা মাঝে মাঝেই বলে থাকি হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক ক্রিয়েট করার জন্য কিন্তু আসুন জেনে নেই কিভাবে হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক বানাতে হয়,এবং একটা হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্কের কি কি গুনাবলী থাকা প্রয়োজন।

ব্যাকলিঙ্ক নেয়ার আগে যেসব গুনাবলি দেখে ব্যাকলিঙ্ক বিল্ড করবেনঃ

  • আপনাকে অবশ্যই টপ র‍্যাঙ্কিং এর ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিঙ্ক নিতে হবে।
  • যে সাইট থেকে ব্যাকলিঙ্ক বিল্ড করবেন তার ডোমেইন অথোরিটি ১০০ এর কাছাকাছি বা হাই থাকতে হবে।
  • কোন পেইড ব্যাকলিঙ্ক হওয়া যাবে না।
  • এমন ব্লগ সাইট এ ব্যাকলিঙ্ক করুন যার প্রচুর ভিজিটর থাকে প্রতিদিন।
  • কন্টেন্টের মাঝে ব্যাকলিঙ্ক।
  • এবং ডু-ফলো ব্যাকলিঙ্ক। 

backlinks

এবার চলুন কিভাবে হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক কিভাবে বানানো যায়?

আর আপনি যদি না জানেন যে ব্যাকলিঙ্ক কি তাহলে আপনি নিচের লিংক থেকে দেখে নিনঃ

Also Read: ব্যাকলিঙ্ক কি এবং ব্যাকলিঙ্ক কিভাবে কাজ জানুন।


১। ব্লগে কম্মেন্টস বা সিমিলার সাইটঃ

বর্তমানে ব্লগে কম্মেন্টস করা এ যাবত কালে সব থেকে বড় ব্যাকলিঙ্কের উৎস হিসাবে ধরা হয়। আপনি খুব সহজেই আপনার নিশ বা কাজ এর উপর রিলেটেড ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই কম্মেন্টস করার মাধ্যমে প্রচুর ভিজিটর নিতে পারবেন।

আপনি যদি অইসব ব্লগ সাইটে সুন্দর মান সম্মত কম্মেন্ট করতে পারেন তাহলে সেখান থেকে রেফারেল হিসাবে ভিজিটর নিতে পারবেন। 

আপনি গুগলে আপনার নিশ রিলেটেড ওয়েব সাইট সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন এসব ব্লগ সাইট।

তাই যেসকল বিষয় গুলি আগে খেয়াল করবেন।

*সক্রিয় মানের ব্লগ হতে হবে।
*মানসম্মত ব্লগ হতে হবে।
*ভালো মানের কন্টেন্টের লেখক থাকতে হবে।
*ব্লগ সাইট টির র‍্যাঙ্ক অবশ্যই ভালো হতে হবে।
*চেষ্টা করবেন ডু-ফলো লিঙ্কিং করার,তবে সেগুলো না থাকলে নো-ফলো ব্যাকলিঙ্ক তৈরি করতে পারেন।

গুগল থেকে আপনি আপনার নিশ রিলেটেড আপনার কাজের জন্য চাইলে আপনি নিচে দেয়া কিছু কমান্ড করতে পারেন।

  • site:.com inurl:blog “niche” “leave a comment”
  • “Add comment” Your Keywords
  • “Post comment” Your Keywords
  • “Write comment” Your Keywords
  • Your Keywords “leave a comment” / “leave comment”

উপরের সিষ্টেমের মাধ্যমে আপনি চাইলে খুব সহজেই আপনার নিশ রিলেটেড কাজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট গুলো খুঁজে পাবেন।

এবার আরেক টি বিষয় খেয়াল করুন হয়তো আপনি আপনার নিশ রিলেটেড কাজের সাইট বা ব্লগ খুঁজে পেলেন এবার আপনি উক্ত সাইটের ডোমেইন অথোরিটি হাই কোয়ালিটি পিএ-ডিএ কিনা সেটা চেক করে নিতে পারেন।

এর জন্য গুগলে সার্চ করতে পারেন (Website pa-da Checker OR Domain Authority Checker)

এবার আপনি এভাবে আপনার ব্লগের ভিজিটর এর সাইট কে টপ র‍্যাঙ্কিং এ নিয়ে আসতে আস্তে আস্তে কাজ শুরু করে দিন।

২। আর্টিকেল সাব-মিশন করুনঃ


আর্টিকেল সাব-মিশন আরেকটি গুরুত্ব পুর্ন মাধ্যম যার সাহায্যে আপনি খুব হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক বা লিংক বিল্ডীং করতে পারবেন।

বিষয় টা কিছুটা গেষ্ট পোষ্ট এর মত বলা যায়।

তবে এক্ষেত্রে আপনি যদি ব্লগিং বা এসইওতে নতুন কাজ করে থাকে তাহলে এই কাজ টি আপনার জন্য কিছু টা কষ্টকর হবে আপনার জন্য।

কারন আর্টিকেল সাব-মিশন এর জন্য আপনাকে ভালো মানের আর্টিকেল রাইট করতে হবে এবং প্রচুর সময় দিতে হবে সাথে ধৈর্য এবং আর্টিকেল এর পরিষ্কার রেফারেন্স উল্লেখ্য করতে হবে।

৩। গেষ্ট পোষ্ট লিখুনঃ


গেষ্ট পোষ্টিং এর বিষয় আসলে আপনারা অনেকেই দেখেছি বিষয় টি এড়িয়ে চলেন কিংবা অনেক বেশি ভয় পান ,এর কারন হচ্ছে এটি মূলত আর্টিকেল সাব-মিশন এর থেকে কিছুটা অন্যরকম এবং কঠিন বলা যায়।

এর জন্য আপনাকে প্রচুর ব্লগ লিখতে প্রাকটিস করতে হবে, কারন আপনি যদি ভালো মানের কন্টেন্ট না লিখতে পারেন এবং অন্য ব্লগার দের সাথে যোগাযোগ না রাখেন তবে এ কাজ টি আপনার জন্য কঠিন।
তাই এই কাজের জন্য আপনাকে ইংলিশ ব্লগ এবং বিভিন্ন গেষ্ট পোষ্টিং এর ব্লগ গুলি ভিজিট করতে হবে আপ্নাকে।
তা না হলে আপনি হাই কোয়ালিটির বেশি ভিজিটর সম্পন্ন ব্যাকলিঙ্ক করতে পারবেন না।

এছাড়া আপনি চাইলে গুগলে গেষ্ট পোষ্টিং এর অনেক ওয়েবসাইট পেয়ে থাকবেন যার মধ্যে আপনি চাইলে Medium.com এ একাউন্ট করে লিখা লিখি করতে পারেন।

৪। ডিরেক্টরি সাব-মিশন সাইটঃ


ডিরেক্টরি সাবমিশন সাইট গুলো তে এখন আর আগের মত হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক পাওয়া যায় না বলে অনেকে মনে করেন তবে সঠিক ভাবে ডিরেক্টরি সাব-মিশন এর সাইট গুলো তে আপনি চাইলে ডিরেক্টরি সাব-মিশন করতে পারলে হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক পাওয়া সম্ভব।

তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অইসব সাইট গুলো তে সাবমিট করার আগে অবশ্যই সাইটের পেইজ র‍্যাঙ্ক,আলেক্সা র‍্যাঙ্কিং,বা ডোমেইন অথোরিটি পিএ-ডিএ চেক করে নিতে হবে।

৫। সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে লিংক শেয়ার করাঃ


সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলো তে আপনার ওয়েব সাইট বা ব্লগের লিংক শেয়ার করে দিন।এতে আপনি খুব সহজেই একটি ব্যাকলিঙ্ক পেয়ে যাবেন।
এবং সাথে সাথে আপনি আপনার ব্লগ বা সাইটে কিছু রেফারেল ভিজিটর পেয়ে যাবেন।

আপনার ব্লগ বা সাইট যত বেশি হাই কোয়ালিটি ডোমেইন অথোরিটির সাইটে প্রধান্য পাবে তত আপনার সাইটের গুগল র‍্যাঙ্কিং করতে সুবিধা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া তে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে আপনি শুধু ভিজিটর নয় ভালো মানের লিংক অটো ইন্ডেক্স এর সুবিধা পাবেন গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে।

তাই চেষ্টা করবেন আপনার পোষ্টের লিংক রেগুলার আপডেট করার জন্য।

৬। ভিডিও মার্কেটিং করুনঃ


বর্তমানে ভিডিও মার্কেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক এর ক্ষেত্রে।

কারন আপনি যদি আপনার নিশ বা কাজের টিউটোরিয়াল নিয়ে ভিডিও মেইক করে ইউটিউব বা ভিমো,ডেইলিমোশনে শেয়ার করে সেখানে আপনার ব্লগ বা সাইটের লিংক বিল্ড করে দেন সেটা হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক হিসাবে কাজ করবে এবং বেশি ভাল্যুওয়ালা সাইট গুলি তে একবার র‍্যাঙ্কিং করতে পারলে গুগল এর ভ্যালু বেশি দিবে এবং আপনার সাইট খুব তারাতারি র‍্যাঙ্কিং করবে গুগলে।

তাই চেষ্টা করুন পোষ্ট পাব্লিশের পাশাপাশি ভিডিও মেইক করা।

৭। ফোরাম পোষ্টিংঃ


বর্তমানে ফোরাম খুব জনপ্রিয় একটি পোর্টাল, এখন মোটামোটি সবাই কম বেশি ফোরাম বিষয়ে বিজ্ঞ, এবং এসব ফোরাম এখন নিজ নিজ ভাষার উপরেও তৈরি হচ্ছে দেখা যায়।যদিও এখন তেমন ফোরাম পোষ্টিং এর ক্ষেত্রে এটি তেমন হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক প্রোভাইড হচ্ছে না তবে সঠিক ভাবে ফোরামে পোষ্টিং করলে এটি থেকে ভালো মানের ব্যাকলিঙ্ক পাওয়া সম্ভব,যেমন আমদের দেশে TrickBD বা Techtunes এর মত বিভিন্ন জনপ্রিয় র‍্যাঙ্কিং এর কিছু ফোরাম রয়েছে সে সব ফোরামে জয়েন করে কয়েক টি ভালো মানের ইউনিক পোষ্ট করতে পারলে নিজের সাইট এড করার সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে বা দিয়ে দেয় ফোরামের অউনার রা।

তাই এসব সাইটে নিজেকে সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করুন।

৮। প্রোফাইল ব্যাকলিঙ্কঃ


প্রোফাইল ব্যাকলিঙ্ক বলতে বুঝা যায় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্রিয়েট করে সেখানে এড সাইট অপশনে নিজের সাইট কে এড করে দেয়া।

যা মোটামোটি ভালো এবং হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক হিসাবে ধরা যায় এবং গুগলে সেটা অটো ইন্ডেক্স করে দেয়।

এর জন্য আপনি ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,ইউটিউব, পিন্টারেষ্ট এবং টুইটার এর সাহায্য নিতে পারেন।
যেমন ফেসবুকে গিয়ে নিজের প্রোফাইলে এড ওয়েবসাইটে নিজের ব্লগ বা সাইট কে এড করে দিন এটাই ব্যাকলিঙ্ক হয়ে যাবে,

আবার ইনস্টাগ্রামেও ঠিক এভাবে নিজের সাইট কে এড করে দিন দিন।

বোঝার সুবিধার্তে আপনি নিচের স্ক্রিনশট ফলো করতে পারেন।

backlink


যদিও বা পিন্টারেষ্টে নিজের ওয়েবসাইট কে এড করা একটু কঠিন তবে পিন্টারেষ্ট আদর্শ হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিঙ্ক।

তবে এটি অনেক সাহায্য করে সাইট কে র‍্যাঙ্ক দিতে তাই আপনি যদি না বুঝে থাকেন তাহলে আমার পোষ্ট টি খেয়াল করুন।প্রথমে পিন্টারেষ্ট এর সাইটে গিয়ে নিজের প্রোফাইল ক্রিয়েট করে নিবেন এর পর সেখানে দেখবেন প্রথম পাতায় নিজের ইনফো আপডেট এর জায়গা এর পর এর নিচের সেটিং এ লিংক এড এর অপশন চলে আসবে ,সেখানে আপনার সাইটের লিংক এড করার জায়গা রয়েছে এবং সেটাকে ক্লেইম করে নিতে হবে।

এর জন্য আপনাকে আপনার সাইট এর ইউ আর এল পেষ্ট করতে হবে এবং সেখান তারা একটি কোড দিবে ভেরিফাই করার জন্য।

আপনাকে সেই কোড কে আপনার ব্লগের বা সাইটের (HEAD) এর নিচে পেষ্ট করে দিতে হবে এবং কিছু সময় নিয়ে আবার ক্লেইমে ক্লিক করুন,

এভাবে নিজের সাইটকে লিংক বিল্ডিং করুন।

৯। প্রশ্নোত্তর সাইটে লিংক বিল্ড করুনঃ

বর্তমানে আমাদের সামনে অনেক হাই কোয়ালিটির র‍্যাঙ্কিং এর প্রশ্নত্তোর সাইট দেখে থাকি গুগলে,যার মধ্যে কুয়োরা এবং আমদের দেশিও বিস্ময় এর মত সাইট খুব জনপ্রিয়,আপনি সেখানে অংশ গ্রহন করুন।

সেখানে কি জানতে চায় এবং সেগুলো যদি আপনার সাইটের পোষ্ট রিলেটেড হয়ে থাকে তাহলে সেখানে আপনার সাইট কে বিল্ড করে দিন। 

যেমন এভাবে ঃ যদি কেউ প্রশ্ন করে “ব্যাকলিঙ্ক কিভাবে কাজ করে” তাহলে সেখানে আপনি কিছু লিখবেন যে এভাবে এভাবে কাজ করে এর পর আপনি বলবেন আরো জানতে চাইলে ভিজিট করুন এখানে, এবং সেখানে আপনার সাইটের লিংক এড করে দিবেন এতে ভিজিটর এবং লিংক বিল্ড দুটোই আপনাকে সুবিধা দিবে।

এভাবেই আপনি রিলেটেড এবং নন রিলেটেড এর ব্লগ বা সাইটে নিজের সাইটের জন্য হাই কোয়ালিটির ব্যাকলিংক বানিয়ে নিতে পারবেন।

আশা করি আজকের বিবন্ধিত টিউন টি আপনাদের জন্য কাজে আসবে,তাই ভালো লাগলে অবশ্যই নিচে কম্মেন্ট করে জানাবেন এবং বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিবেন।

আর নতুন নতুন এসওই সম্পর্কে বা যে ব্লগিং বিষয়ে ধারনা নিতে আপনার মতামত জ্ঞাত করতে ভুলবেন না।

Sabyasachi Dewery

Author | Blogger | Digital Marketing Influencer | Tech Researcher At www.sdewery.me

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button